চিবুকের দ্বিগুণ হয়ে ওঠা দৃষ্টিকটুই বটে। একে আড়াল করে চেহারায় সৌন্দর্য সৃষ্টিতে চাই কিছু কৌশল
সামনে থেকে মোটামুটি ঠিকঠাকই দেখায়। কিন্তু পাশ থেকে দেখলেই মনে হবে
চিবুকের নিচে জমে আছে মেদের আলাদা আস্তর। অনেকের তো আরও বেহাল দশা। তাদের
চেহারাই বেঢপ হয়ে যায়। দেখায় আকারহীন। যা খালি চোখে ধরা না পড়লেও স্পষ্ট
ফুটে ওঠে সাধের সেলফি আর ছবিগুলোতে। সাবমেন্টাল এ ফ্যাট পরিচিত ডাবল চিন
হিসেবে।

এর
বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমটি, ওজন বেড়ে যাওয়া। এতে শরীরের অন্যান্য অংশের
মতো চেহারায়ও বাজে প্রভাব পড়ে। চিবুক আক্রান্ত হয় সবার আগে। মেদের আস্তর
জমে তৈরি হয় ডাবল চিন। তবে যদি ভাবা হয় বাড়ন্ত ওজনই এর মূল কারণ, ভুল।
জিনগত কারণেও বাড়ে এর প্রকোপ। পরিবারে মানুষদের ডাবল চিন থাকলে এ আশঙ্কা
প্রবল হয়ে ওঠে। ওজনের পাশাপাশি বয়সের ভার বাড়লেও চেহারায় দেখা দেয় ডাবল
চিন। ইলাস্টিসিটি কমে ত্বকের ঝুলে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
কারণ যেমনই হোক, প্রয়োজন প্রতিকার। সঠিক ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস আর
নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে ডাবল চিন কমানো সম্ভব। তবে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘ।
সার্জিক্যাল আর নন-সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্টও রয়েছে ডাবল চিন সারাতে। ফলাফল
দ্রুত মিললেও প্রয়োজন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ সমাধান
মেকআপের সঠিক ব্যবহার, সঠিক কৌশলে।
শুরুতে
প্রথমেই গুছিয়ে নেওয়া চাই পণ্যগুলো। হাতের কাছে থাকতে হবে একটা বাড়তি
ফাউন্ডেশন অথবা কনসিলার। যেটাই নেওয়া হোক না কেন, অবশ্যই ক্রিম ফর্মুলার
হওয়া চাই। সেই সঙ্গে যে ফাউন্ডেশন বা কনসিলার মেকআপ বেজ তৈরির ক্ষেত্রে
ব্যবহৃত হচ্ছে, তার থেকে অন্তত দুই শেড গাঢ় হতে হবে। যা দিয়ে ডাবল চিন
স্কাল্পটিং সেরে নেওয়া যাবে। আরও প্রয়োজন হবে ম্যাট ব্রোঞ্জার। যাদের স্কিন
টোন ফর্সা, তাদের জন্য রোজ টোন ব্রোঞ্জার বেশি জুতসই। আর চাপা গায়ের
ত্বকের জন্য গোল্ড টোন ব্রোঞ্জার মানিয়ে যাবে অনায়াসে। প্রয়োজন হবে একটা
অ্যাঙ্গেলড কনট্যুর ব্রাশ। আর পুরো স্কাল্পটিং লুক সেট করার জন্য চাই
ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার। ত্বকেরও প্রস্তুতি প্রয়োজন মেকআপের আগে। ত্বক
উপযোগী ক্লিনজার দিয়ে ভালো করে ধুয়ে মাখতে হবে ময়শ্চারাইজার। এ ক্ষেত্রে
বিশেষ নজর দিতে হবে চিবুক ও চোয়ালের অংশগুলোয়। এতে ডাবল চিন কনসিল করার
কাজটা সুন্দর ও সহজ হবে অনেকখানি।
প্রয়োগে
বেজ মেকআপের পরই শুরু করা চাই ডাবল চিন স্কাল্পটিং। এক কানের পাশ থেকে শুরু
করে চোয়াল আর চিবুক হয়ে অন্য কানের পাশ পর্যন্ত মাখতে হবে গাঢ় শেডের
ফাউন্ডেশন অথবা কনসিলার। পুরো অংশে একটানের প্রয়োগ ঝামেলা মনে হলে প্রথমে
চেহারার এক পাশ পরে অন্য পাশে মাখালেও চলবে। তা এমনভাবে চাই যেন আসল ফেস
স্ট্রাকচারকে সুন্দরভাবে ফ্রেমিং করে নেওয়া যায়। ডাবল চিনের মতো বাড়তি
অংশগুলোয় ছায়ার ইফেক্ট তৈরি হয়। এর ওপর একই শেডের ব্রোঞ্জারের প্রলেপ দিয়ে
তারপর শুরু করতে হবে ব্লেন্ডিং। সার্কুলার এবং আউটওয়ার্ড মোশনে চালাতে হবে
ব্রাশ। ভালোভাবে ব্লেন্ডিংয়ের উপর নির্ভর করবে স্কাল্পটিংয়ের ফলাফল। এভাবেই
চোয়াল আর চিবুকের নিচে যেসব অংশ বাড়তি মনে হবে, সেসব অংশ গাঢ় শেড দিয়ে
ছায়া তৈরির মাধ্যমে ঢেকে যাবে ডাবল চিন। সেট করার জন্য আলতো করে
ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বুলিয়ে নেওয়া চাই অবশ্যই।
নেকলাইনে নজর
ডাবল চিন থেকে দৃষ্টি সরাতে এটা দারুণ উপায়। গলা আর কলার বোনকে আকর্ষণীয়
দেখানোর জন্য সামান্য ব্রোঞ্জার মাখিয়ে নিতে হবে প্রযোজ্য অংশগুলোতেও।
সঙ্গে সামান্য শিমার আর হাইলাইটারের ছোঁয়ায় পাওয়া যাবে ম্যাক্সিমাম
ইফেক্ট।
চোখ থেকে গালে ডাবল চিন থেকে মনোযোগ সরানোর এ-ও এক কার্যকর কৌশল। হাইলাইট করতে হবে গাল আর
চোখের সাজ। আপওয়ার্ড স্ট্রোকে পছন্দসই ব্লাশঅন লাগানো যেতে পারে এ
ক্ষেত্রে। সঙ্গে হাইলাইটিং থাকতে হবে একদম অন পয়েন্ট। ড্রামাটিক কিংবা
মিনিমাল—আইমেকআপ যেমনই হোক না কেন, পুরো সাজে মূল মনোযোগ যেন চিবুক আর
চোয়াল এড়িয়ে চোখে আর গালে পড়ে।
ঠোঁটেও
যাদের ডাবল চিনের সমস্যা, তাদের হালকা রঙের লিপস্টিক বেছে নেওয়াই ভালো।
কারণ, গাঢ় রঙের হলে তা পুরো মনোযোগটাই নিয়ে নেয়। ফলে শুধু ঠোঁট নয়, তার
আশপাশের চিবুক আর চোয়ালের অংশেই নজর বেশি পড়ে। ডাবল চিন আরও দৃষ্টিকটু
দেখায়।
চুলেও কাটে চিন
এমন হেয়ারস্টাইল বেছে নেওয়া যাবে না, যা গলা বা চোয়ালের উপর পড়ে থাকে। এতে
ডাবল চিন আরও স্পষ্ট বোঝা যায়। এ ক্ষেত্রে বব কাটই জুতসই। সামনে বড় আর
পেছনে ছোট করে কাটা অ্যাঙ্গুলার বব দারুণ সমাধান। করে নেওয়া যেতে পারে হাই
পনিটেইল হেয়ারস্টাইল। তবে চিবুকের নিচের চুল কার্ল করা যাবে না একদমই। ডাবল
চিন তখন ত্রিপল চিনে রূপ নিতে পারে কিন্তু!
জাহেরা শিরীন
মডেল: মৌ
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: সৈয়দ অয়ন
Comments
Post a Comment