স্থূলকায় শিশু মানেই সবল নয়
বর্তমানে ‘শিশুর স্থূলতা’ একটি আলোচিত বিষয়। আর এই
সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং শিশু
পছন্দ করে এমন খাবার ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘দ্যা ইন্ডিয়ান জার্নাল অব
এন্ড্রোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’য়ের এক পরিসংখ্যান থেকে শিশুর স্থূলতা বিষয়ে
বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে জানা যায়।
ভারতের স্কুলগামী শিশুদের ৫.৭৪ এবং ৮.৮২ শতাংশ শিশু স্থূলতার শিকার। এবং
দক্ষিণ ভারতের শহরাঞ্চলে ২১.৪ শতাংশ ছেলে শিশু ও ১৮.৫ শতাংশ মেয়ে শিশু স্থূলতার
শিকার যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
২০০০ সালের ‘দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ওবেসিটি টাস্ক ফোর্স’য়ের গবেষণা অনুযায়ী
সারা বিশ্বের বয়সের ৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ শিশু (প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লক্ষ)
অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী যার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই (প্রায় ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি ৫০
লক্ষ) স্থূলকায়।
স্থূল শিশু মানেই
সুস্থ শিশু নয়
প্রচলিত ধারণা আছে যে, স্বাস্থ্যবান শিশু মানেই সুস্থ শিশু। প্রকৃত অর্থে
শিশুর সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি। শিশুর প্রয়োজনের তুলনায়
অতিরিক্ত চর্বি শরীরে জমা হয় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রবণতাও বাড়তে থাকে।
তাই শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত ওজনের
শিশুদের পরে স্থূলকায় হওয়ার প্রবণতা বেশি
যেসব শিশুর ওজন বেশি থাকে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরও তাদের ওজন বৃদ্ধির
সম্ভাবনা থাকে। বিস্তারিত গবেষোণার মাধ্যমে দেখা গেছে, শিশুকালের ‘স্থূলতার’ সঙ্গে
প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরও স্থুলতার সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ছোটবেলায় যাদের ওজন বেশি থাকে তার বড় হওয়ার পর নানানভাবে
অসুস্থ থাকে।
শিশুদের অতিরিক্ত ওজন সবসময় খারাপ নয়। যেসব শিশুর ওজন বেশি তারা তাদের
উচ্চতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ ছোট থেকেই ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিলে তারা চাইলে
তাদের উচ্চতা বাড়াতে পারে। এতে ওজন বৃদ্ধির হার কমে গিয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
তবে যেসব শিশু এরমধ্যে তাদের নির্দিষ্ট বা কাছাকাছি উচ্চতায় লম্বা হয়ে
গেছে এটা তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই শিশুর সুস্বাস্থ্য ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের
জন্য শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
শিশুর স্থূলতার ক্ষেত্রে কী খেতে হবে আর কী খাওয়া যাবে না তা প্রধান কথা
নয়। কেননা শিশুদের বাড়তি ওজন অতিরিক্ত ডায়েট বা অতিরিক্ত সমালোচনার মাধ্যমে কমানো
যায় না।
অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের জন্য খাবার ও ভালোবাসা দুটারই প্রয়োজন। পাশাপাশি
প্রয়োজন খুব ভালো বোঝাপড়া। উন্নত পুষ্টি, ব্যায়াম এবং সহযোগিতার মাধ্যমে শিশু তার
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুন্দর স্বাস্থ্য গড়ে তুলতে পারে। এতে শিশু পেতে পারে সুস্থ ও
সুন্দর জীবন।
Comments
Post a Comment